রাম মন্দির ট্রাস্টের অর্থ আসে ভক্তদের দানের পয়সা থেকে। চাইলে আপনিও দিতে পারেন। সর্বনিম্ন দানের অঙ্ক একটি ইটের দাম অর্থাৎ 11 টাকা, সর্বোচ্চ যতোটা পারেন। যতোটা জানি ট্রাস্টে বর্তমানে প্রায় 30 কোটির মতো টাকা আছে। এই সবই অসংখ্য ভক্তের দানের টাকা। ভারতবর্ষ এমনই এক দেশ যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠরা বাস্তবে সংখ্যালঘু। কেন? ভারতবর্ষে প্রদেশভেদে হিন্দুদের মন্দিরগুলোকে 23 শতাংশ অব্দি " কর " দিতে হয়। হ্যাঁ ব্যাপারটা ঠিক এটাই যে আপনি একজন হিন্দু হিসেবে নিজের ধার্মিক বিশ্বাসের জন্য ট্যাক্স দিচ্ছেন। মর্ডান " জিজিয়া কর "! কিন্তু একমাত্র মন্দির ছাড়া ভারতে প্রদেশভেদে বা কেন্দ্রীয় কোনভাবেই কোন " কর " দিতে হয় না!
ভারতবর্ষে সবচেয়ে বেশি জমির মালিক আদতে যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তা হলো " চার্চ "। তাদের এক হাত জমিতেও কোনদিন কিছু কি করার দাবী তুলেছে তথাকথিত " প্রগতিশীল " সমাজ? রাম মন্দিরের রায়ে মসজিদের জন্য জায়গা হিসেবে 5 একর জমি যা রাম মন্দিরের জায়গার তুলনায় দ্বিগুণের ও বেশি, সেই জমির এক হাত জায়গাতেও কোন কিছু তৈরির দাবী কি করেছে কোনদিন তথাকথিত "প্রগতিশীল" সমাজ? পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু উন্নয়নের নামে প্রতি বছর একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে হাজার হাজার কোটি টাকা তাদের ধর্মীয় শিক্ষাখাত এবং তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বরাদ্দ করা হয়, যদিও সেই টাকা সবারই " ট্যাক্স " এর টাকা। দানের টাকা নয়। অথচ গ্রাউন্ড রিয়েলিটিতে ভারতবর্ষে "আসল সংখ্যালঘু" হচ্ছে জৈনরা, মাত্র 1 পার্সেন্ট ও পুরোপুরি হবে না, কিন্তু সবচেয়ে উন্নত ও অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে থাকা সম্প্রদায়! কিছুদিন আগেই পদ্মনাভস্বামী মন্দিরের কন্ট্রোল নেওয়ার চেষ্টা করেছিল প্রাদেশিক সরকার, কোর্ট পর্যন্ত যাওয়ায় অবশেষে রক্ষা পায়। অথচ এই মন্দির ছাড়া আর কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার কন্ট্রোল নেওয়ার চেষ্টা করা হয় না কিন্তু!এবার আসল কথায় আসি, হিন্দুরা ধর্মীয় বিশ্বাস পালনের জন্য ট্যাক্স দিয়েও, হিন্দুদের ট্যাক্সের টাকা থেকে অন্যেরা ধর্মীয় খাতে বরাদ্দ পাওয়ার পরেও, হিন্দুদের দানের টাকা থেকে তৈরি হতে যাওয়া মন্দিরের জায়গাতেই কেন হাসপাতাল, গবেষণাগার ইত্যাদি তৈরির দাবী তোলে "প্রগতিশীল" নামক একটি শ্রেণির পরজীবি?
আরও আছে, ইদানিং কেউ জয় শ্রীরাম বললেই সে বিজেপি আরএসএস এর লোক। অথচ রামচন্দ্রের ইতিহাস হাজার বছরের। বংশ পরম্পরায় হিন্দুরা বাই ডিফল্ট শ্রীরামচন্দ্রের সাথে কানেক্টেড! রাম মন্দির নিয়ে আন্দোলনের সূচনা হয় 18 শতকের মাঝামাঝিতে। সেই সময়ে না বিজেপি ছিল, না আরএসএস। তা তুরস্কের খিলাফত আন্দোলন যা আদতে ছিল ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠা ও রক্ষার সংগ্রাম, তাকে তোমরা স্বাধীনতা আন্দোলন, জাতীয় আন্দোলন বলতে পারো, কিন্তু রাম মন্দির আন্দোলন বা জয় শ্রীরাম বললেই অমুক দলের লোক, তমুক দলের লোক বলে দাও, এই সার্টিফিকেট দেওয়ার তুমি কে হে শুয়োরের বাচ্চা? তোমার অওকাত কি আমাদের হাজার হাজার বছরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সামনে যা রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েও কেউ থামাতে পারেনি?! রামচন্দ্রের সাথে তো হিন্দুরা বংশ পরম্পরায় কানেক্টেড তাহলে কি হিন্দুদের পূর্বজরা সবাই বিজেপি আরএসএস এর এজেন্ট? এই সার্টিফিকেট দেওয়ার তুমি কে হে শুয়োরের বাচ্চা? যে দুর্গাপূজা তোমাদের কাছে জাস্ট " ফটোশ্যুট করার একটা কালচারাল প্রোগ্রাম " সেই পূজা শুরু করেছিল স্বয়ং রামচন্দ্র অকাল বোধনের মাধ্যমে। তাহলে মা দুর্গাও বিজেপি, আরএসএস এর এজেন্ট? সোজা বাঙ্গালায় বললে হিন্দুদেরকে প্রশ্ন করার কোন অধিকারই নেই। হিন্দুরা যদি তাদের ট্যাক্সের টাকার হিসেব নেওয়া শুরু করে প্রপারলি, সব অনুদান তোমাদের লুঙ্গি বাপদের লুঙ্গি আর তোমাদের প্যান্টের তলার কোন ছিদ্র দিয়ে যে বেরিয়ে যাবে টেরও পাবে না। হিন্দুদেরকে সার্টিফিকেট দেওয়ার কোন অওকাত তোদের নেই।
আর নিজেদের ধর্মীয় অধিকার ডিফেন্ড করলে কোন হিন্দুকে বানানো হয় "কট্টর হিন্দু"। তা প্রথম কথা হিন্দুদের জন্য, কেউ যখন নিজেকে প্রাউড শিখ বলে, প্রাউড খ্রিস্টান বলে, প্রাউড জৈন বলে, প্রাউড মুসলিম বলে তাদের তো কোন লজ্জা লাগে না! আমি তো বলি লজ্জিত হবেই বা কেন তারা? তাদের প্রাউড ফিল করাই উচিত কারণ তারা তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে গর্ববোধ করে! এটা তো দোষের কিছু না। তাহলে তুমি কোন শুয়োরের বাচ্চা হিন্দু যে তুমি প্রাউড হিন্দু, কট্টর হিন্দু বলতে লজ্জা পাও? তোমার ইতিহাস ও সংস্কৃতির মতো আর কেউ তো নেই! পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সংস্কৃতির রক্ত তোমার ধমনীতে বইছে। তাহলে কেন তুমি লজ্জিত হও শুয়োরের বাচ্চা? আর যারা ট্যাগ দেয়ার কাজ করে অর্থাৎ তথাকথিত " প্রগতিশীল " সমাজ, তোমরা কোন শুয়োরের বাচ্চা ট্যাগ দেওয়ার? অন্যদের কাউকে কখনও দিয়েছো তোমরা তোমাদের এই " প্রগতিশীলতা " খাটিয়ে? তোমাদের আরেকটা লজিক হচ্ছে, রাম ছিল কল্পিত! তা আমি ধরেই নিলাম তোমার কাছে কল্পিত, তাই বলে সেটা আমাকেও মেনে নিতে হবে, তুমি কে হে শুয়োরের বাচ্চা? তোমার এই কল্পিত কল্পনার মহাকাব্যের ধারায় তো যীশু কল্পিত ধরা দেয় না, বুদ্ধ কল্পিত ধরা দেয় না, নবী মোহাম্মদ কল্পিত ধরা দেয় না, তাহলে শুধু রামই কেন কল্পিত ধরা দেয়, কৃষ্ণ কেন কল্পিত ধরা দেয়? হিন্দুদেরকে হিন্দুদের মতো থাকতে দাও। ইহুদিদের পিছনে হিটলার তথা নাৎসিরা হাত ধুয়ে পড়াতে কনসিক্যুয়েন্স কি হয়েছিল তা ভালো করেই জানো। বাকিটা জানা না থাকলে জেনে নিও।
ঝাঁপা মাল, কিন্তু কথাগুলো চরম সত্য।
No comments:
Post a Comment